24/7 patient support Free consultation →

ভারতে হার্ট সার্জারি ২০২৬: খরচ, সেরা হাসপাতাল ও বাংলাদেশ থেকে মেডিকেল ভিসা

বাংলাদেশি রোগী ও পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ গাইড: টাকায় খরচ, কোন অপারেশন কখন লাগে, কোন শহর ও হাসপাতাল, IVAC ভিসা আর কত ডলার নেওয়া যায়।

সর্বশেষ আপডেট: · নোবেল মেডি অ্যাসিস্ট্যান্স টিম

ভারতে হার্ট সার্জারির খরচ শুরু হয় এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টের জন্য প্রায় ৩,৮০০ মার্কিন ডলার থেকে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪.৭ লাখ টাকা। বাইপাস সার্জারি শুরু প্রায় ৪,৫০০ ডলার (প্রায় ৫.৬ লাখ টাকা) থেকে, আর হার্টের ভালভ পরিবর্তন শুরু প্রায় ৭,৫০০ ডলার (প্রায় ৯.৩ লাখ টাকা) থেকে।

এই গাইডটি লেখা হয়েছে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা বা দেশের যেকোনো জায়গার সেই পরিবারগুলোর জন্য, যাদের কার্ডিওলজিস্ট বলেছেন অপারেশন লাগবে। হয়তো হার্টের রক্তনালিতে ব্লক, হয়তো ভালভ নষ্ট হয়ে গেছে, অথবা শিশুর হার্টে ছিদ্র। এখানে সহজ ভাষায় সব কিছু ব্যাখ্যা করা হয়েছে: আসল খরচ কত, কোন শহর ও হাসপাতাল বেছে নেবেন, IVAC-এ কীভাবে মেডিকেল ভিসা করবেন, কত ডলার সাথে নিতে পারবেন, আর অপারেশনের পর দেশে ফিরে কী করবেন।

এই লেখার সব দাম মার্কিন ডলারে, কারণ ভারতের হাসপাতাল বিদেশি রোগীদের কাছে ডলারে বিল করে। টাকার হিসাব করা হয়েছে প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ধরে (২৬ অক্টোবর ২০২৬ এর বাজারদর)।

এক নজরে উত্তর

প্রশ্নসংক্ষিপ্ত উত্তর
সাধারণ হার্ট অপারেশনের খরচ৩,৮০০ থেকে ৭,৫০০ ডলার (প্রায় ৪.৭ থেকে ৯.৩ লাখ টাকা)
উন্নত চিকিৎসামাইট্রাক্লিপ ২৫,০০০ ডলার থেকে, TAVI ৩৮,০০০ ডলার থেকে
হাসপাতালে থাকাএনজিওপ্লাস্টিতে ২ থেকে ৩ দিন, ওপেন হার্ট সার্জারিতে ৭ থেকে ১০ দিন
ভারতে মোট সময়এনজিওপ্লাস্টিতে প্রায় ১ সপ্তাহ, ওপেন হার্টে প্রায় ৩ সপ্তাহ
ভিসাIVAC-এর মাধ্যমে মেডিকেল ভিসা, সাথে অ্যাটেনড্যান্ট ভিসা
কত ডলার নিতে পারবেনচিকিৎসার জন্য প্রতি সফরে ব্যাংকের মাধ্যমে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত, এর মধ্যে নগদ সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার
ইয়েলো ফিভার সার্টিফিকেটবাংলাদেশ থেকে সরাসরি গেলে লাগে না
প্রথম ধাপইকো, এনজিওগ্রাম ও ইসিজি পাঠান, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিনামূল্যে মতামত পান

ভারতে হার্ট সার্জারির খরচ কত? (২০২৬, টাকায়)

নিচের দামগুলো আমাদের পার্টনার হাসপাতালগুলোর শুরুর দাম। চূড়ান্ত দাম হাসপাতাল লিখিতভাবে জানায়, ডাক্তার আপনার রিপোর্ট দেখার পর। তবুও এই হিসাব থেকে পরিবার আগেই বাজেটের একটা বাস্তব ধারণা পাবে।

চিকিৎসাশুরুর দাম (ডলার)আনুমানিক টাকায়হাসপাতালে থাকাভারতে মোট সময়
এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং পরানো)৩,৮০০প্রায় ৪.৭ লাখ২ থেকে ৩ দিন১ সপ্তাহ
বাইপাস সার্জারি (CABG)৪,৫০০প্রায় ৫.৬ লাখ৭ থেকে ১০ দিন৩ সপ্তাহ
শিশুর হার্টের ছিদ্র বন্ধ (ASD / VSD)৫,৫০০প্রায় ৬.৮ লাখ৩ থেকে ৭ দিন২ সপ্তাহ
হার্টের ভালভ পরিবর্তন৭,৫০০প্রায় ৯.৩ লাখ৭ থেকে ১০ দিন৩ সপ্তাহ
মাইট্রাক্লিপ (MitraClip)২৫,০০০প্রায় ৩১ লাখ৩ থেকে ৫ দিন২ সপ্তাহ
TAVI (ক্যাথেটারে অ্যাওর্টিক ভালভ)৩৮,০০০প্রায় ৪৭ লাখ৪ থেকে ৬ দিন২ সপ্তাহ

প্যাকেজে সাধারণত যা থাকে

  • সার্জন ও অ্যানেসথেটিস্টের ফি এবং অপারেশন থিয়েটার

  • রুম ভাড়া এবং পরিকল্পিত দিনগুলোর আইসিইউ

  • হাসপাতালে থাকার সময়ের সাধারণ ওষুধ ও সামগ্রী

  • হাসপাতালের ভেতরের রুটিন পরীক্ষা

  • রোগীর খাবার

যে কারণে চূড়ান্ত বিল বাড়তে বা কমতে পারে

  • ভালভ বা স্টেন্টের ধরন: মেকানিক্যাল ভালভ আর টিস্যু ভালভের দাম আলাদা। স্টেন্টের সংখ্যা ও ব্র্যান্ড অনুযায়ীও দাম বদলায়।

  • রুমের ধরন: শেয়ার্ড, সিঙ্গেল নাকি ডিলাক্স।

  • বাড়তি দিন: সুস্থ হতে বেশি সময় লাগলে আইসিইউ বা ওয়ার্ডের দিন বাড়ে।

  • অন্য অসুখ: ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা, নিয়ন্ত্রণহীন প্রেশার বা আগের কোনো হার্ট অপারেশন থাকলে বেশি পরীক্ষা ও বেশি দিন লাগতে পারে।

  • হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা (EF): হার্ট দুর্বল হলে অপারেশনের পরে বেশি যত্ন লাগে।

হাসপাতালের বাইরের খরচ

হাসপাতালের বিলের বাইরে দুজনের যাতায়াত, ছুটির পর হাসপাতালের কাছে প্রায় দুই সপ্তাহ থাকার খরচ, খাবার, স্থানীয় যাতায়াত আর IVAC সার্ভিস চার্জের হিসাব রাখুন। হাসপাতালের কোটেশনের সঙ্গে আমাদের কাছে এই খরচের একটা আনুমানিক হিসাবও চেয়ে নিন। আমাদের ভারতে চিকিৎসার খরচ গাইডে এগুলো বিস্তারিত আছে।

বাংলাদেশের রোগীরা কেন ভারতে হার্ট সার্জারি করান?

বাংলাদেশেও ভালো হৃদরোগ চিকিৎসা হয়। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট (NICVD), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ইব্রাহিম কার্ডিয়াক এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত বাইপাস, ভালভ আর এনজিওপ্লাস্টি হয়। অনেক রোগীর জন্য দেশেই চিকিৎসা করানো ঠিক সিদ্ধান্ত, আর আপনার রিপোর্ট দেখে আমরাও সেটা বললে খোলাখুলি বলব।

তবু যে পরিবারগুলো ভারত বেছে নেয়, তারা সাধারণত এই কারণগুলো বলেন।

অপেক্ষার সময় কম

সরকারি হাসপাতালে পরিকল্পিত হার্ট অপারেশনের জন্য লম্বা অপেক্ষা হতে পারে। ভারতে ডাক্তার রিপোর্ট দেখার পর রোগী পৌঁছালে সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই অপারেশনের তারিখ পাওয়া যায়।

বড় হাসপাতালে বেশি অভিজ্ঞতা

ভারতের বড় হার্ট সেন্টারগুলোতে প্রতিদিন বাইপাস, ভালভ আর এনজিওপ্লাস্টি হয়। যে টিম একই অপারেশন বারবার করে, জটিল কেস ও জটিলতা সামলাতে তাদের অভিজ্ঞতা বেশি থাকে।

আগে থেকেই লিখিত খরচ

টিকিট কাটার আগেই প্রতিটি হাসপাতাল ডলারে বিস্তারিত লিখিত কোটেশন পাঠায়। কী আছে, কী নেই, বাড়তি দিন লাগলে কী হবে, সব আগে থেকে জানা যায়।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

ভারতের অনেক বড় হার্ট হাসপাতালের JCI বা NABH স্বীকৃতি আছে, এবং বিদেশি রোগীদের জন্য আলাদা ইন্টারন্যাশনাল পেশেন্ট ডেস্ক আছে।

জটিল ও আধুনিক চিকিৎসা

TAVI (বুক না কেটে ভালভ বদল), মাইট্রাক্লিপ, ছোট কাটায় হার্ট সার্জারি, রোবোটিক বাইপাস আর নবজাতকের জটিল হার্ট অপারেশন ভারতের বড় সেন্টারগুলোতে নিয়মিত হয়।

ভাষা ও খাবারে স্বস্তি

কলকাতায় বাংলা ভাষাতেই কথা বলা যায়, আর অনেক হাসপাতালে বাংলাভাষী কর্মী বা দোভাষী থাকেন। হালাল খাবার ও বাঙালি খাবার সহজেই পাওয়া যায়। সব চিকিৎসার তালিকা দেখতে আমাদের মূল পাতা ভারতে কার্ডিয়াক সার্জারি দেখুন।

হার্টের কোন অপারেশন কখন লাগে: সহজ ব্যাখ্যা

কোন চিকিৎসা লাগবে, সেটা ঠিক করে আপনার রিপোর্ট, রোগী বা হাসপাতালের পছন্দ নয়। নিচে প্রতিটি চিকিৎসার মানে আর কখন সেটা দরকার হয়, তা সহজভাবে দেওয়া হলো।

এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং পরানো)

হার্টের এক বা দুটি রক্তনালি সরু হয়ে গেলে কার্ডিওলজিস্ট হাতের কবজি বা কুঁচকি দিয়ে একটি সরু নল ঢুকিয়ে ছোট বেলুন দিয়ে নালিটি খোলেন, তারপর সেখানে একটি স্টেন্ট বা রিং রেখে দেন। সাধারণত লোকাল অ্যানেস্থেশিয়ায় হয়, বেশিরভাগ রোগী সেদিন বা পরদিন হাঁটেন এবং দুই থেকে তিন দিনে ছুটি পান। বিস্তারিত দেখুন ভারতে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টের খরচ পাতায়।

বাইপাস সার্জারি (CABG)

তিন বা তার বেশি রক্তনালিতে ব্লক থাকলে, প্রধান বাম রক্তনালিতে বড় ব্লক থাকলে, অথবা ডায়াবেটিসের সঙ্গে একাধিক ব্লক থাকলে ডাক্তাররা সাধারণত বাইপাসের পরামর্শ দেন। সার্জন বুক, হাত বা পায়ের একটি সুস্থ রক্তনালি নিয়ে ব্লকের পাশ দিয়ে রক্ত চলাচলের নতুন পথ তৈরি করেন। অপারেশনে তিন থেকে পাঁচ ঘণ্টা লাগে, তারপর এক বা দুই দিন আইসিইউ এবং মোট সাত থেকে দশ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে হার্ট না থামিয়েও (Off-pump) বাইপাস করা যায়। দাম জানতে দেখুন ভারতে বাইপাস সার্জারির খরচ।

হার্টের ভালভ মেরামত বা পরিবর্তন

বাংলাদেশে রিউমাটিক হার্ট ডিজিজ এখনও বেশ দেখা যায়। ছোটবেলায় গলার ইনফেকশনের ঠিকমতো চিকিৎসা না হলে কয়েক বছর পরে হার্টের ভালভ নষ্ট হয়ে যেতে পারে, আর এতে অনেক কমবয়সী মানুষ আক্রান্ত হন। বয়সজনিত কারণেও ভালভ শক্ত বা সরু হয়ে যেতে পারে। ভালভ মেরামত করা গেলে সেটাই ভালো, না গেলে দুই ধরনের ভালভ দিয়ে বদলানো হয়:

  • মেকানিক্যাল ভালভ: সারাজীবন টেকে, কিন্তু প্রতিদিন রক্ত পাতলা করার ওষুধ খেতে হয় এবং নিয়মিত INR পরীক্ষা করতে হয়।

  • টিস্যু ভালভ: সাধারণত সারাজীবন রক্ত পাতলা করার ওষুধ লাগে না, কিন্তু ১০ থেকে ১৫ বছর পরে ক্ষয় হতে পারে।

যে তরুণী ভবিষ্যতে সন্তান নিতে চান, তাঁর জন্য এই সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ গর্ভাবস্থায় রক্ত পাতলা করার ওষুধে বিশেষ নজরদারি লাগে। সার্জনের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলুন। বিস্তারিত দেখুন ভারতে হার্টের ভালভ পরিবর্তন পাতায়।

TAVI: বুক না কেটে অ্যাওর্টিক ভালভ পরিবর্তন

সরু হয়ে যাওয়া অ্যাওর্টিক ভালভ বদলাতে পায়ের রক্তনালি দিয়ে নতুন ভালভ বসানো হয়, বুক কাটতে হয় না। বয়স্ক রোগী বা যাঁদের জন্য ওপেন সার্জারি ঝুঁকিপূর্ণ, তাঁদের জন্য এটা উপযুক্ত। হাসপাতালে থাকা কম, তবে ভালভের দাম বেশি, তাই খরচ শুরু প্রায় ৩৮,০০০ ডলার থেকে। দেখুন ভারতে TAVI-র খরচ।

শিশুর হার্টে ছিদ্র ও জন্মগত হার্টের রোগ

হার্টের ওপরের দুই প্রকোষ্ঠের মধ্যে ছিদ্র (ASD) আর নিচের দুই প্রকোষ্ঠের মধ্যে ছিদ্র (VSD) সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। অনেক ছিদ্র পায়ের শিরা দিয়ে একটি ছোট ডিভাইস বসিয়ে বন্ধ করা যায়, বুক কাটতে হয় না। বড় বা জটিল ছিদ্র, অথবা টেট্রালজি অব ফ্যালোর মতো রোগে শিশু হার্ট সার্জারি দলের অপারেশন লাগে। শিশুর হার্টের ছিদ্রের চিকিৎসা পাতায় দুটি পদ্ধতিই বিস্তারিত বলা আছে।

পেসমেকার ও হৃদস্পন্দনের সমস্যা

হার্ট খুব ধীরে বা অনিয়মিতভাবে চললে পেসমেকার, ICD বা অ্যাবলেশন লাগতে পারে। এগুলো ক্যাথ ল্যাবে করা ছোট প্রক্রিয়া, সাধারণত দুই থেকে তিন দিন হাসপাতালে থাকতে হয়।

ছোট কাটায় বা রোবোটিক সার্জারি কখন হয়?

কিছু ভালভ ও বাইপাস অপারেশন বুকের হাড় না কেটে পাঁজরের ফাঁকে ছোট কাটা দিয়ে করা যায়। সুস্থ হওয়া দ্রুত, দাগ ছোট, কিন্তু সবার জন্য উপযুক্ত নয়। হার্টের ছবি দেখে সার্জনই সিদ্ধান্ত নেন।

ভারতের কোন শহর ও কোন হাসপাতাল বেছে নেবেন?

বাংলাদেশি রোগীরা সাধারণত কলকাতা, চেন্নাই, ভেলোর, বেঙ্গালুরু আর দিল্লিতে হার্টের চিকিৎসা করান। প্রতিটি শহরের সুবিধা আলাদা।

শহরসুবিধাযা মাথায় রাখবেন
কলকাতাসবচেয়ে কাছে, সড়ক, রেল ও আকাশপথে যাওয়া যায়, বাংলায় কথা বলা যায়জনপ্রিয় হাসপাতালে ভিড় বেশি, আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
চেন্নাইবড় ও অভিজ্ঞ হার্ট সেন্টার, বিদেশি রোগীদের জন্য দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকলকাতার চেয়ে দূরে, স্থানীয় ভাষা তামিল
ভেলোরবাংলাদেশিদের কাছে বহু বছর ধরে পরিচিতছোট শহর, চেন্নাই থেকে সড়কপথে যেতে হয়
বেঙ্গালুরুবড় হার্ট হাসপাতাল, শিশুদের হার্ট সার্জারিতে শক্তিশালীযাতায়াত সাধারণত কলকাতা বা ঢাকা থেকে কানেক্টিং ফ্লাইটে
দিল্লি ও এনসিআর (গুরগাঁও, নয়ডা)বড় বেসরকারি হার্ট সেন্টার, TAVI ও জটিল সার্জারিতে অভিজ্ঞ, ঢাকা থেকে সরাসরি ফ্লাইটকলকাতার চেয়ে দূরে, শীতে খুব ঠান্ডা

আমাদের মূল নেটওয়ার্ক দিল্লি এনসিআরে। আপনার রিপোর্ট দেখে আমরা এমন দুই বা তিনটি হাসপাতাল প্রস্তাব করি, যারা আপনার নির্দিষ্ট অপারেশন নিয়মিত করে।

হাসপাতাল বাছাইয়ে আমরা যা দেখি

  1. স্বীকৃতি: JCI বা NABH মানে নিয়মিত নিরাপত্তা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রেকর্ড রাখার মান যাচাই।

  2. একই অপারেশনের সংখ্যা: যেখানে প্রতিদিন বাইপাস বা ভালভ সার্জারি হয়, সেখানে টিম বেশি অভিজ্ঞ।

  3. সঠিক বিশেষজ্ঞ: ওপেন সার্জারি করেন কার্ডিয়াক সার্জন (MCh CTVS); স্টেন্ট, TAVI ও পেসমেকার করেন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট (DM Cardiology); শিশুদের জন্য পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক টিম।

  4. ইন্টারন্যাশনাল পেশেন্ট ডেস্ক: ভিসার আমন্ত্রণপত্র, বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা ও পেমেন্টে সাহায্য করে।

  5. স্বচ্ছ কোটেশন: কী আছে, কী নেই, বাড়তি দিন লাগলে কত খরচ, সব লিখিত।

দেখুন আমাদের ভারতের সেরা কার্ডিয়াক সার্জারি হাসপাতাল এবং ভারতের সেরা হার্ট সার্জন তালিকা। হাসপাতাল ও ডাক্তার বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত আপনার।

সিদ্ধান্তের আগে যে প্রশ্নগুলো করবেন

  • সার্জন মাসে এই অপারেশন কতগুলো করেন?

  • কোটেশনে কোন ভালভ বা স্টেন্ট ধরা আছে, আপগ্রেড করলে কত বাড়বে?

  • আইসিইউ ও ওয়ার্ডে কত দিনের খরচ কোটেশনে আছে?

  • কোনো জটিলতা হলে বিল কীভাবে বদলাবে?

  • ভ্রমণের আগে কি ভিডিও কলে চিকিৎসক ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা যাবে?

বাংলাদেশ থেকে ভারতের মেডিকেল ভিসা (২০২৬)

বাংলাদেশি নাগরিকরা অনলাইনে ফরম পূরণ করে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (IVAC)-এ কাগজপত্র জমা দেন। ভিসার নিজস্ব কোনো ফি নেই, তবে IVAC প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয় (১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে)। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে IVAC নিজেই ক্রমানুসারে স্লট দেয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় IVAC কেন্দ্র চালু আছে। সর্বশেষ তথ্য সবসময় IVAC-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (ivacbd.com) থেকে যাচাই করুন।

টুরিস্ট নয়, মেডিকেল ভিসা নিন

২৮ জুন ২০২৬ থেকে বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা আবার চালু হয়েছে, আর মেডিকেল ভিসা পুরো সময় চালু ছিল। কিন্তু অপারেশনের জন্য টুরিস্ট ভিসায় যাবেন না। হাসপাতাল ভর্তি হতে, ভিসা বাড়াতে আর অ্যাটেনড্যান্ট নিতে মেডিকেল ভিসা দরকার।

যে কাগজপত্র লাগে

  • মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, ন্যূনতম ছয় মাস মেয়াদ, সঙ্গে পুরোনো সব পাসপোর্ট

  • তিন মাসের মধ্যে তোলা ছবি

  • ভারতীয় হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র (ইনভাইটেশন লেটার), যা হাসপাতাল বাছাইয়ের পর আমরা এনে দিই

  • বাংলাদেশি ডাক্তারের রেফারেল ও সাম্প্রতিক রিপোর্ট

  • জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও ঠিকানার প্রমাণ (যেমন ইউটিলিটি বিল)

অ্যাটেনড্যান্ট ভিসা

রোগীর সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা মেডিকেল অ্যাটেনড্যান্ট ভিসায় যেতে পারেন। প্রত্যেক অ্যাটেনড্যান্টের আলাদা আবেদন লাগে, আর তাঁদের নাম হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্রে থাকা ভালো। কতজন অ্যাটেনড্যান্ট যেতে পারবেন, সেই সংখ্যা IVAC-এর সর্বশেষ নিয়ম থেকে নিশ্চিত করুন। আমাদের মেডিকেল ভিসা সহায়তা টিম আবেদনের আগে কাগজপত্র যাচাই করে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

  • ভিসায় যে পোর্ট বা পথ (বিমান বা স্থলবন্দর) লেখা থাকে, সেই পথেই ভারতে ঢুকুন। আবেদনের সময়ই সঠিক পথ বেছে নিন।

  • দীর্ঘ সময় থাকতে হলে বা ভিসা বাড়াতে হলে হাসপাতালের চিঠি নিয়ে FRRO-তে আবেদন করতে হয়। আমাদের কোঅর্ডিনেটর এতে সাহায্য করেন।

  • IVAC বা ভারতীয় হাইকমিশন কখনো ফোন করে টাকা চায় না। দালালের ফাঁদে পা দেবেন না।

যাতায়াত, ডলার ও থাকার ব্যবস্থা

কীভাবে যাবেন: বিমান, সড়ক না রেল?

  • বিমানে: ঢাকা থেকে কলকাতা প্রায় এক ঘণ্টার ফ্লাইট। ঢাকা থেকে দিল্লি ও চেন্নাইয়েও সরাসরি ফ্লাইট পাওয়া যায়, আর চট্টগ্রাম থেকেও কলকাতার ফ্লাইট আছে। ওপেন হার্ট সার্জারির রোগী বা দুর্বল রোগীর জন্য বিমানই সবচেয়ে আরামদায়ক।

  • সড়কপথে: বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে কলকাতা যাওয়া সবচেয়ে প্রচলিত। খরচ কম, কিন্তু সীমান্তে লাইনে দাঁড়াতে হয় এবং যাত্রা লম্বা। এনজিওপ্লাস্টির মতো ছোট চিকিৎসার রোগীর জন্য চলতে পারে, কিন্তু বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট থাকলে সড়কপথ এড়িয়ে চলুন।

  • রেলপথে: ঢাকা ও খুলনা থেকে কলকাতার ট্রেন সার্ভিস আগে চালু ছিল। যাত্রার আগে ট্রেন চলছে কি না যাচাই করে নিন।

ভিসায় যে পথ লেখা আছে, সেই পথেই যাবেন। হার্টের রোগী হলে এয়ারলাইনকে জানান, প্রয়োজনে কার্ডিওলজিস্টের কাছ থেকে ফিট-টু-ফ্লাই সার্টিফিকেট নিন, আর বিমানবন্দরে হুইলচেয়ার চেয়ে রাখুন।

কত ডলার নিতে পারবেন?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রতি সফরে বিদেশি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের বৈধ কাগজ দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত নেওয়া যায়। এর মধ্যে নগদ সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার, বাকিটা কার্ডে। এর বেশি লাগলে ব্যাংক আপনার হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন চাইবে। বিস্তারিত পড়ুন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এই প্রতিবেদনে। নিয়ম বদলাতে পারে, তাই যাত্রার আগে নিজের ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

ব্যবহারিক পরামর্শ:

  • হাসপাতালের কোটেশন ও আমন্ত্রণপত্র ব্যাংকে দেখালে ডলার এনডোর্সমেন্ট সহজ হয়।

  • বড় বিল সরাসরি হাসপাতালের অ্যাকাউন্টে পাঠানো বা আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধ করা নিরাপদ।

  • প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ রেখে দিন। দেশে ফিরে হিসাব মেলাতে কাজে লাগবে।

  • রাস্তায় অচেনা মানি চেঞ্জারের কাছে বড় অঙ্ক ভাঙাবেন না।

কোথায় থাকবেন?

রোগী হাসপাতালে থাকেন ছুটি পর্যন্ত, সাধারণত একজন অ্যাটেনড্যান্ট রুমে থাকতে পারেন। ছুটির পর হাসপাতালের কাছে গেস্ট হাউস বা সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে হয়। কলকাতায় মুকুন্দপুর ও ইএম বাইপাসের আশপাশে অনেক বাংলাদেশি রোগী থাকেন। আমাদের কোঅর্ডিনেটর বিমানবন্দরে আপনাকে নিতে আসেন এবং থাকার জায়গা বা হাসপাতালে পৌঁছে দেন। ভারতীয় সিম কার্ড নিয়ে নিন, যাতে হাসপাতাল ও কোঅর্ডিনেটরের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়।

ধাপে ধাপে: প্রথম মেসেজ থেকে দেশে ফেরা পর্যন্ত

বেশিরভাগ পরিবার প্রথম মেসেজ থেকে হাসপাতালে ভর্তি পর্যন্ত দুই থেকে চার সপ্তাহ সময় নেন। রিপোর্ট পাঠানো আর ভিসার কাজ একসঙ্গে করলে সময় বাঁচে।

  1. রিপোর্ট পাঠান। ইকো, এনজিওগ্রাম (সিডি থাকলে সেটাও), ইসিজি আর সাম্প্রতিক রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপ বা আমাদের ফর্মে পাঠান। মোবাইলে তোলা পরিষ্কার ছবিই যথেষ্ট।

  2. বিনামূল্যে মতামত নিন। একজন সিনিয়র কার্ডিওলজিস্ট বা সার্জন রিপোর্ট দেখে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসার পরামর্শ দেন। আরও জানুন আমাদের অনলাইন সেকেন্ড ওপিনিয়ন সম্পর্কে।

  3. দুই বা তিনটি হাসপাতাল তুলনা করুন। প্রতিটি হাসপাতাল ডলারে বিস্তারিত কোটেশন পাঠায়।

  4. সার্জনের সঙ্গে কথা বলুন (ঐচ্ছিক)। সিদ্ধান্তের আগে ভিডিও কলের ব্যবস্থা করা যায়।

  5. IVAC-এ ভিসার আবেদন করুন। আমরা হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র এনে দিই এবং রোগী ও অ্যাটেনড্যান্টের কাগজ যাচাই করি।

  6. ডলার এনডোর্সমেন্ট করুন। হাসপাতালের কোটেশন দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ডলার বা কার্ডের ব্যবস্থা করুন।

  7. ভারতে যান। আমাদের কোঅর্ডিনেটর বিমানবন্দরে আপনাকে নিতে আসেন।

  8. ভর্তি ও অপারেশন। হাসপাতাল কিছু পরীক্ষা আবার করে, পরিকল্পনা নিশ্চিত করে এবং সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই অপারেশন হয়।

  9. হাসপাতালের কাছে সুস্থ হওয়া, তারপর দেশে ফেরা। সার্জন অনুমতি দিলে দেশে ফেরেন, ডিসচার্জ রিপোর্ট আপনার দেশের ডাক্তারের কাছে যায়, আর ভারতীয় টিম ভিডিও কলে পাশে থাকে।

অপারেশনের পর সুস্থ হওয়া ও দেশে ফলো-আপ

এনজিওপ্লাস্টির পর বেশিরভাগ রোগী সেদিন বা পরদিন হাঁটেন এবং দুই থেকে তিন দিনে ছুটি পান। বাইপাস বা ভালভ সার্জারির পর সাত থেকে দশ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়, তারপর হাসপাতালের কাছে প্রায় দুই সপ্তাহ বিশ্রাম ও হালকা হাঁটাহাঁটি। বুকের হাড় জোড়া লাগতে ছয় থেকে আট সপ্তাহ লাগে, তাই এই সময়ে ভারী জিনিস তোলা ও গাড়ি চালানো নিষেধ।

কবে দেশে ফিরতে পারবেন? শেষ চেকআপের পর সার্জন সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণভাবে এনজিওপ্লাস্টির রোগীরা প্রায় এক সপ্তাহ পরে, আর ওপেন হার্ট সার্জারির রোগীরা অপারেশনের দশ দিন থেকে দুই সপ্তাহ পরে ফেরেন। কলকাতা কাছে হলেও অপারেশনের পরপর লম্বা সড়কযাত্রা এড়িয়ে চলুন। ফেরার টিকিট পরিবর্তনযোগ্য রাখুন।

ভারত ছাড়ার আগে নিশ্চিত হন আপনার কাছে আছে:

  • পূর্ণ ডিসচার্জ সামারি ও অপারেশন নোট

  • ওষুধের তালিকা জেনেরিক নামসহ, যাতে বাংলাদেশের ফার্মেসিতে একই ওষুধ পাওয়া যায়

  • দেশে প্রথম ডাক্তার দেখানো পর্যন্ত যথেষ্ট ওষুধ

  • মেকানিক্যাল ভালভ হলে লক্ষ্য INR মাত্রা লিখিতভাবে

  • ভারতীয় টিমের সঙ্গে প্রথম ভিডিও ফলো-আপের তারিখ

দেশে ফিরে দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনার কার্ডিওলজিস্টকে দেখান এবং ডিসচার্জ রিপোর্ট দিন। মেকানিক্যাল ভালভ থাকলে বাড়ির কাছে কোথায় INR পরীক্ষা করবেন, তা যাওয়ার আগেই ঠিক করে রাখুন। যাঁরা আগে এই পথ পাড়ি দিয়েছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা পড়ুন আমাদের রোগীদের সাফল্যের গল্পে।

ভারতে হার্ট সার্জারি নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা

ভারতে ওপেন হার্ট সার্জারির খরচ কত টাকা?

বাইপাস সার্জারি শুরু প্রায় ৪,৫০০ ডলার (প্রায় ৫.৬ লাখ টাকা) থেকে, আর ভালভ পরিবর্তন শুরু প্রায় ৭,৫০০ ডলার (প্রায় ৯.৩ লাখ টাকা) থেকে। চূড়ান্ত খরচ নির্ভর করে হাসপাতাল, ভালভের ধরন, রুম ও হাসপাতালে থাকার দিনের ওপর।

ভারতে স্টেন্ট বা রিং পরাতে কত খরচ?

একটি স্টেন্টসহ এনজিওপ্লাস্টি শুরু প্রায় ৩,৮০০ ডলার (প্রায় ৪.৭ লাখ টাকা) থেকে। স্টেন্টের সংখ্যা ও ধরন অনুযায়ী খরচ বাড়ে। হাসপাতালে থাকতে হয় দুই থেকে তিন দিন।

ভারতে হার্ট সার্জারি কি নিরাপদ?

ভারতের বড় হার্ট সেন্টারগুলো JCI বা NABH স্বীকৃত এবং প্রচুর অপারেশন করে। আপনার নিজের ঝুঁকি নির্ভর করে বয়স, হার্টের অবস্থা ও অন্য অসুখের ওপর, যা সার্জন রিপোর্ট দেখে অপারেশনের আগে জানান।

ভারতে হার্ট অপারেশনের জন্য কত দিন থাকতে হয়?

এনজিওপ্লাস্টিতে প্রায় এক সপ্তাহ, আর বাইপাস বা ভালভ সার্জারিতে প্রায় তিন সপ্তাহ, যার মধ্যে সাত থেকে দশ দিন হাসপাতালে।

বাংলাদেশ থেকে ভারতের মেডিকেল ভিসা কীভাবে করব?

অনলাইনে ফরম পূরণ করে IVAC-এ পাসপোর্ট, ছবি, হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্র ও মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিন। ভিসার ফি নেই, তবে IVAC ১,৫০০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেয়।

টুরিস্ট ভিসায় কি ভারতে হার্ট অপারেশন করানো যায়?

না। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে অপারেশনের জন্য মেডিকেল ভিসা লাগে, আর সঙ্গের আত্মীয়দের জন্য মেডিকেল অ্যাটেনড্যান্ট ভিসা।

চিকিৎসার জন্য কত ডলার নিয়ে যাওয়া যায়?

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রতি সফরে ব্যাংকের মাধ্যমে ১৫,০০০ ডলার পর্যন্ত নেওয়া যায়, যার মধ্যে নগদ সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার। এর বেশি হলে ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগে।

কলকাতা না চেন্নাই, কোনটা ভালো?

কলকাতা কাছে ও বাংলায় কথা বলা যায়, আর চেন্নাইয়ে বড় ও অভিজ্ঞ হার্ট সেন্টার আছে। ভালো শহর নির্ভর করে আপনার অপারেশন, সার্জনের অভিজ্ঞতা ও বাজেটের ওপর।

রোগীর সঙ্গে কে যেতে পারেন?

পরিবারের সদস্যরা মেডিকেল অ্যাটেনড্যান্ট ভিসায় যেতে পারেন। তাঁদের নাম হাসপাতালের আমন্ত্রণপত্রে থাকা ভালো, আর সংখ্যা IVAC-এর সর্বশেষ নিয়ম অনুযায়ী।

বিনামূল্যে মতামতের জন্য কোন রিপোর্ট পাঠাব?

সর্বশেষ ইকো, এনজিওগ্রাম রিপোর্ট (থাকলে), ইসিজি, সাম্প্রতিক রক্ত পরীক্ষা আর বর্তমান ওষুধের তালিকা। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত মতামত পাবেন।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিনামূল্যে মতামত নিন

ভারতে হার্ট সার্জারির প্রথম ধাপে কোনো খরচ নেই: শুধু রিপোর্ট পাঠান। একজন সিনিয়র বিশেষজ্ঞ রিপোর্ট দেখে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত মতামত, দুই বা তিনটি হাসপাতালের প্রস্তাব আর ডলারে বিস্তারিত কোটেশন পাঠাবেন। ভারতে আসার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, আর দেশে চিকিৎসা করানো ভালো হলে আমরা সেটাই বলব।

আমাদের কন্টাক্ট ফর্মে রিপোর্ট পাঠান অথবা হোয়াটসঅ্যাপ করুন +91 85868 19140 নম্বরে। রোগীর বয়স, আপনি কোন শহর থেকে যাবেন আর আপনার ডাক্তার কী পরামর্শ দিয়েছেন, তা জানান।

এই গাইডের খরচগুলো পরিকল্পনার জন্য শুরুর আনুমানিক দাম, প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ধরে। চূড়ান্ত খরচ হাসপাতাল রিপোর্ট দেখার পর লিখিতভাবে জানায়। ভিসা ও বৈদেশিক মুদ্রার নিয়ম বদলাতে পারে, তাই IVAC ও আপনার ব্যাংক থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। এই লেখা তথ্যের জন্য, আপনার ডাক্তারের পরামর্শের বিকল্প নয়।